ভোর থেকে চলছে ‘জওয়ান’ ঝড়

আগের সংবাদ

শাইখ সিরাজ: এক অনন্য ব্যক্তিত্ব

পরের সংবাদ

ইসলামে শালীনতাবোধ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৩ , ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৩ , ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব সব মানুষই মহান আল্লাহর বান্দা। তবে সবাই ‘রহমানের বান্দা’ নয়। রহমানের বান্দা হওয়ার অন্যতম শর্ত শালীনতাবোধসম্পন্ন হওয়া। নম্র ও ভদ্র হওয়া। পবিত্র কোরআনের সুরা আল-ফুরকানের ৬৩ আয়াতে এরশাদ হয়েছে– রহমানের বান্দা তারাই, যারা পৃথিবীতে নম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন তাদের অজ্ঞ লোকেরা সম্বোধন করে, তখন তারা বলে ‘সালাম’।

এ আয়াতে আল্লাহ তায়ালা খাঁটি বান্দাদের পরিচয় দিয়েছেন এভাবে– যারা প্রকৃত মুমিন, পরহেজগার ও উন্নত আদর্শের অনুসারী, তারা বিনম্র পদক্ষেপে চলাফেরা করে, তারা কখনও অহংকার করে না। তাদের মনে যেমন অহংকার থাকে না, তেমনি তাদের চালচলন, কথাবার্তা, ওঠাবসায় কখনও অহংবোধ পরিলক্ষিত হয় না। তারা রহমানের নাম শুনে মুশরিকদের ন্যায় মন্দ কথা বলার ধৃষ্টতা দেখায় না।

শালীনতাবোধসম্পন্ন লোকেরা হবেন নম্র-ভদ্র, বিনয়ী ও মার্জিত স্বভাবের। এ ছাড়া সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমানতদারিতার গুণাবলিও তাদের মধ্যে থাকবে। তারা হবেন আল্লাহভীরু। এমন বিনীত, বিনম্র ও নিরহংকার মুমিনদেরই আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রকৃত বান্দা বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে শরিফে বর্ণিত– রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেন।’

অন্য হাদিসে বর্ণিত– রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, ‘মহান আল্লাহ আমার কাছে এ মর্মে ওহি নাজিল করেছেন যে, তোমরা বিনয় অবলম্বন করে চলো। অতএব কেউ কারও ওপর গর্ব করবে না, কেউ কারও ওপর বাড়াবাড়ি করবে না।’ (মুসলিম ও আবু দাউদ) অহংকার অর্থ নিজেকে অন্যের তুলনায় বড় মনে করা এবং অন্যকে নিজের চেয়ে ছোট মনে করা। অহংকার ও আত্মগরিমার ফলে মানুষ কেবল দুনিয়াতেই অপদস্থ হয় না, পরকালেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়ে রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে শর্ষের দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ অহংকারমুক্ত ও শালীনতাবোধসম্পন্ন মানুষের আরেকটি বৈশিষ্ট হলো– সময়, সুযোগ ও শক্তি থাকা সত্ত্বেও শত্রুকে ক্ষমা করে দেওয়া। ক্ষমা মহত্ত্বের লক্ষণ। মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল।

মানুষকে ক্ষমা করার আদেশ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা সুরা বাকারার ১০৯ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘অতএব তোমরা ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করে যাও যতক্ষণ না আল্লাহ কোনো নির্দেশ দেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্বশক্তিমান।’ আল্লাহ তায়ালা সুরা আল ইমরানের ১৩৪ আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘মুমিনরা হলো ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।’

হাদিসে বর্ণিত– রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, “ইমানের শাখা-প্রশাখা সত্তরেরও অধিক। তার মধ্যে উত্তম শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা। আর সর্বাধিক সহজ শাখা হলো মানুষের চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া। লজ্জাশীলতা ইমানের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা।” (বুখারি ও মুসলিম) শালীনতাবোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা হয় সুন্দর ও রুচিশীল। আল্লাহ তায়ালা সুন্দর। তিনি সুন্দরকে ভালোবাসেন। পরস্পর দয়া ও করুণার মনোভাব পোষণ, অপরকে অনুগ্রহ করা শালীনতাবোধসম্পন্ন ব্যক্তিদের মহৎ গুণ। আল্লাহ তায়ালা সুরা কাসাসের ৭৭ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘আর তুমি (অন্যের প্রতি) দয়া করো যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করেছেন। পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে যেও না। আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীকে ভালোবাসেন না।’

হাদিসে বর্ণিত– রাসুলে পাক (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়াশীল নয়, আল্লাহ তায়ালাও সে ব্যক্তির প্রতি দয়া করেন না।’ (বুখারি ও মুসলিম)অন্য হাদিসে বর্ণিত, রাসুলে পাক (সা.) বলেন, ‘যারা অপরের প্রতি দয়াশীল, দয়াময় আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করে থাকেন। কাজেই জমিনবাসীর প্রতি দয়া করো, তাহলে আকাশের প্রভুও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ )

ড. মো. শাহজাহান কবীর: চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রুপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়