ডুগডুগির সর্বনাশা জুয়ায় সর্বশান্ত মানুষ, দেখার কেউ নেই???

আগের সংবাদ

কোপা আমেরিকা কাপের ফাইনালে থাকছে বাড়তি টাইম

পরের সংবাদ

জোয়ার সাহারা বিআরটিএ অফিসে পরিদর্শক জিয়ার রমরমা বাণিজ্য

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৪ , ৮:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৪ , ৮:১১ পূর্বাহ্ণ

সজীব আকবর, সিনিয়র প্রতিবেদক:

রাজধানীর জোয়ার সাহারা বিআরটিএ অফিসে পরিদর্শক জিয়ার রমরমা ঘুষ বাণিজ্য চলছে প্রকাশ্যে। পদেপদে হয়রানির শিকার সেবা প্রত্যাশীরা। জোয়ার সাহারায় যেয়ে হয়রানির শিকার হওয়া একাধিক সেবা প্রত্যাশী অভিযোগ করে বলেন, জোয়ার সাহারায় পরিদর্শক জিয়াকে খুশি করতে না পারলে কোনোভাবেই ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাশ করা বা লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়।
সকলেই জানেন রাজধানীর মিরপুর কার্যালয়ে লাইসেন্স নিতে আসা গ্রাহকদের পরীক্ষা হয় জোয়ার সাহারা অফিসে। সপ্তাহে পাঁচ দিন হয় এই পরীক্ষা। এখানে পরিদর্শক জিয়ার মাধ্যমে বেশিরভাগ ড্রাইভিং লাইসেন্স হয় ঘুষ প্রক্রিয়ায়। লাইসেন্স পেতে গ্রাহককে মাঠ পরীক্ষা দেওয়ার আগেই চুক্তি করতে হয় পরিদর্শক জিয়ার মনোনীত দালালের সঙ্গে। এছাড়া অফিসে দালাল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সোহেল ও সাগরের মাধ্যমেও ঘুষের টাকা জমা দিলে বিশেষ চিহ্ন সম্বলিত সেই ফাইল পৌঁছে যায় পরিদর্শক জিয়ার টেবিলে। পরিদর্শক জিয়ার মনোনীত দালালের মাধ্যমে অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা, পেশাদার লাইসেন্সের জন্য দিতে হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। অথচ সরকারি নিট খরচ অপেশাদার লাইসেন্সের জন্য ৪ হাজার ৪৯৭ টাকা ও পেশাদারের জন্য ২ হাজার ৭৭২ টাকা। তবে পরিদর্শক জিয়ার মনোনীত দালালরা চুক্তি করেন শিক্ষানবিশ লাইসেন্সসহ। শিক্ষানবিশের ফি ৫১৮ টাকা। এই দালালচক্র গ্রাহকের রোল নম্বর পরীক্ষার আগে মোটরযান পরিদর্শকের কাছে পাঠিয়ে দেন। প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে পকেটস্থ করেন পরিদর্শক বা তাঁর প্রতিনিধি।
আবার মিরপুর অফিসের গ্রাহকের টাকা দালালরা পৌঁছে দেন জোয়ার সাহারা মেকানিক্যাল সহকারীর কাছে। এর পর তিনি টাকা তুলে দেন মোটরযান পরিদর্শক জিয়াউর রহমানের কাছে। সপ্তাহে এক দিন এসব ঘুষের টাকা ভাগাভাগি হয়। জিয়াউর রহমান নিজের অংশ রেখে বাকিটা সংশ্লিষ্ট শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেন। ফলে ঘুষের ভাগ পেয়ে কর্মকর্তারাও রয়েছেন নি:শ্চুপ।

নিউজের বিষয়ে পরিদর্শক জিয়ার মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও মোবাইল রিসিভ না করাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বিআরটিএর চেয়ারম্যান বলেন, ড্রাইভিং পরীক্ষা, ফিঙ্গার, রেজিষ্ট্রেশন, ফিটনেস ও মালিকানা বদলের বা অন্য কোনো অভিযোগ তুলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ব্যক্তি লাভবান হচ্ছে ঠিকই, তবে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে বিআরটিএর।।

তাই খুব শীঘ্রই দালালচক্র ও তাদের গডফাদারদের ধরতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রুপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়