সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে গরু ব্যবসায়ী নিহত

আগের সংবাদ

নিম্নচাপ রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘হামুনে’, বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

পরের সংবাদ

মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে হাসিবকে খুন করে কিশোর গ্যাং

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২৩ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২৩ , ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ

বরগুনার পাথরঘাটায় পূজা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে অপহৃত হাসিবকে (১৩) মুক্তিপণ না পেয়ে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা।

রোববার (২২ অক্টোবর) রাতে পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনচটকি বিষখালী নদী এলাকা থেকে অপহৃত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কিশোর হাসিব পাথরঘাটার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথরঘাটা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ড পাথরঘাটার বাদুরতলা গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লাহ আল নোমান ওরফে শিশু ফকির (১৯) কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য।

অন্য ৬ জন হলেন, নোমানের বোনের জামাই রহিম মুন্সি, শ্বশুর ইউনুস (৬৫), ফুফাত ভাই সৈয়দ আলী মাঝির ছেলে মো. জসিম (৩০), ইউনুসের মেয়ে তানজিলা (২৩), নোমানের স্ত্রী তাহিরা (১৯), নোমানের শাশুড়ি রহিমা (৫৫) এবং ইজিবাইকচালক আব্দুর রহিম কাজী (৪৫)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর সকালে পূজা দেখাতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে হাসিবকে অপহরণ করা হয়। এরপর অপহরণকারীরা টাকা চেয়ে পরিবারের কাছে নির্যাতনের একটি ভিডিও বার্তা পাঠায়। তারা হাসিবের ব্যবহৃত মোবাইল থেকে পরিবারের কাছে মুক্তিপণের তিন লাখ টাকা চেয়ে বারবার ফোন করতে থাকে। এ ঘটনায় হাসিবের বাবা শফিকুল ইসলাম পাথরঘাটা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

এরপর থেকেই অভিযানে নামে পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা যায় অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করছে, যার কারণে তাদের খুঁজে পেতে বিলম্ব হয়। পরে বিষখালী নদী-সংলগ্ন কাকচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বাইনচটকি স্লুইজ এলাকা থেকে ড্রামের ভেতরে অর্ধগলিত মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়।

এদিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল নোমান কিলিং মিশনের বর্ণনা দিয়ে জানান, প্রথমে হাসিবকে কৌশলে নোমানের ভাড়া বাসায় নিয়ে যায় তারা। পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে রাতে ঘুমি পাড়িয়ে রাখা হয়। পরদিন শনিবার (২১ অক্টোবর) সকালে হাসিবের হাত, পা, মুখ বেঁধে ভিডিও করে মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না পেয়ে তাকে গলায় রশি দিয়ে হত্যা করে।

পরে রোববার সকালে মৃত অবস্থায় আসামি নোমানের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে লুকিয়ে রাখে। সন্ধ্যায় আসামি নোমানের বোনের জামাই আব্দুর রহিম মুন্সির সহযোগিতায় ইজিবাইকচালক আব্দুর রহিম কাজির গাড়িতে করে দক্ষিণ বানচটকি মজিদ খানের বাড়ির সামনের রাস্তায় গর্তে করে পুঁতে রাখে। পরে আসামির দেখানো মতে হাসিবের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম হাওলাদার বলেন, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্য কোনো রহস্য আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রুপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়