মেয়াদোত্তীর্ণ ইউপিতেও বসবে প্রশাসক

আগের সংবাদ

রামপালে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ৫'টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

পরের সংবাদ

সৈয়দপুরে নির্মাণাধীন ফ্যাক্টরীতে বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু 

প্রকাশিত: অক্টোবর ৯, ২০২৩ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০২৩ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নে একটি নির্মাণাধীন ফ্যাক্টরীতে বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনায় নিপু ইসলাম (১৬) নামে এক ওয়েল্ডিং শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় এই দূর্ঘটনা ঘটে এবং বিকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেয়ার সে পথে মারা যায়।
নিহত নিপু ইসলাম সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বাগডোকরা গ্রামের মোকছেদুল ইসলামের ছেলে এবং ইউনিয়ন ছাত্র দলের সদস্য। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। সোমবার বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
জানা যায়, নিপু কামারপুকুর তোকদারপাড়া সংলগ্ন এএনবি ইটভাটা মালিক হাজী নাজমুল হকের নির্মাণীন আয়রন ফ্যাক্টরীতে বেশ কিছু দিন ধরে  ওয়েল্ডিং শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার দিন সকাল ১০ টায় ফ্যাক্টরীর উত্তর পূর্ব কোণে নির্মিতব্য সেড এর চালার এঙ্গেল সেটিংস এর কাজ করছিল। এসময় কাজের প্রয়োজনে ফ্যাক্টরীর সীমানা প্রাচীরের উপর উঠে। এতে মাথার উপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে পড়ায় দূর্ঘটনায় নিপতিত হয়।
বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হওয়ায় প্রথমে কিছুক্ষণ বিদ্যুতের তারে ঝুলে থাকে। এতে বিকট শব্দ হয়। যা আশেপাশের অনেকেই শুনতে পায়। পরে দগ্ধ হয়ে নিচে ড্রেনের উপর পড়ে যায়। ফ্যাক্টরীর লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায়।
নিহতের বাবা সৈয়দপুর বাফার গুদামের কুলি শ্রমিক মোখছেদুল ইসলাম বলেন, দূর্ঘটনা ঘটে গেছে কি আর করা যাবে। কাকে দোষ দেবো। ভাগ্যে ছিল তাই এভাবে আমার বুকের ধনকে হারালাম। সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেও বাঁচাতে পারলাম না। ওর জন্য দোয়া করবেন।
নাম প্রকাশে অনেকের অভিযোগ, ফ্যাক্টরীর সীমানা প্রাচীরের উপরেই উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈদ্যুতিক তার প্রবাহিত। এটা জানা সত্বেও মালিক পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ কাজ করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেনি। বরং ওই তারের নিচেই উম্মুক্তভাবে লোহার এঙ্গেল সেটিংস ও ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করা হয়েছে। আর নিহত শ্রমিক প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলনা বিধায় সতর্কতা অবলম্বন করতে সক্ষম হয়নি। একারণেই এমন মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটেছে।
ফ্যাক্টরী মালিক হাজী নাজমুল হক বলৃেন, ঘটনার সময় আমি উপস্থিত ছিলাম না। তাই কিভাবে এই দূর্ঘটনা ঘটেছে তা সঠিক বলতে পারবো না। তবে চিকিৎসার কোন ত্রুটি করিনি। কিন্তু হায়াত ছিলনা তাই বাঁচানো যায়নি। পরিবারের সাথে সমঝোতা হওয়ায় লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। কি রকম সমঝোতা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, তা বলতে হবে কেন? তাছাড়া দূর্ঘটনা ঘটতেই পারে, তাই বলে কি সব বিষয়ে আইনী পদক্ষেপ নিতে হবে?
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মফিজুল হক বলেন, বৈদ্যুতিক দূর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকের লাশ আসার পর পুলিশ সুরতহাল তদন্ত করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রুপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়